দিয়ারা খতিয়ান অনলাইনে যাচাই করার নিয়ম ২০২৬

দিয়ারা খতিয়ান যাচাই করতে চাচ্ছেন কিন্তু নিয়ম জানেন না? অনলাইনে দিয়ারা খতিয়ানের তথ্য যাচাই করার পদ্ধতি জানতে পারবেন এই পোস্টে।

ভিভিন্ন ধরনের সার্ভে খতিয়ানের মাঝে দিয়ারা খতিয়ান একটি। এছাড়াও, আর এস খতিয়ান, বি আর এস খতিয়ান, বি এস খতিয়ান, এস এ খতিয়ান, সি এস খতিয়ান এবং পেটি খতিয়ান রয়েছে। তবে, আপনার জমির খতিয়ান যদি হয় দিয়ারা খতিয়ান, তবে এটি অনলাইনে যাচাই করতে পারবেন।

কীভাবে অনলাইনে দিয়ারা খতিয়ান অনুসন্ধান করতে হয় বিস্তারিত জানতে পোস্টটি শেষ অব্দি পড়ুন।

দিয়ারা খতিয়ান যাচাই করার নিয়ম

দিয়ারা খতিয়ান যাচাই করতে ভিজিট করুন https://dlrms.land.gov.bd ওয়েবসাইট। অথবা, https://land.gov.bd ওয়েবসাইট ভিজিট করার পর নিচের দিকে স্ক্রোল করে ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেকশনে ক্লিক করুন। তাহলেও উক্ত ওয়েবসাইটে নিয়ে আসবে।

অতঃপর, সার্ভে খতিয়ান অপশনটিতে ক্লিক করুন। ডিফল্টভাবে এটিই সিলেক্ট করা থাকে। অতঃপর, নিচের দিকে সার্ভে খতিয়ানের তথ্য লেখার নিচে, জমির ঠিকানা অনুযায়ী বিভাগের নাম, জেলার নাম এবং উপজেলা/থানার নাম সিলেক্ট করুন।

তারপর, খতিয়ানের ধরণ ঘরের ভিতর থেকে দিয়ারা খতিয়ান নির্বাচন করুন। মৌজা ঘরের ভিতর স্ক্রোল করে মৌজা খুঁজে বের করে সিলেক্ট করুন অথবা জেএল নং লিখে মৌজা খুঁজে বের করে সিলেক্ট করুন। তারপর, খতিয়ানের তালিকা ঘরের ভিতর থেকে খতিয়ান খুঁজে বের করুন।

দিয়ারা খতিয়ান যাচাই
দিয়ারা খতিয়ান যাচাই

এজন্য, খতিয়ান নং লিখে খুঁজুন বাটনে ক্লিক করে খতিয়ান খুঁজতে পারবেন। অথবা, খতিয়ানের তালিকা থেকেও স্ক্রোল করে জমির মালিকের নাম দেখে খতিয়ান খুঁজে বের করতে পারবেন। এভাবে খুঁজে না পেলে অধিকতর অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করে জমির দাগ নং বা মালিকের নাম লিখেও খতিয়ান খুঁজে বের করতে পারবেন।

খতিয়ান খুঁজে পাওয়ার পর পরপর দুইবার ক্লিক করতে হবে। তাহলে, পপআপ আকারে খতিয়ানের বিস্তারিত তথ্য দেখতে পারবেন। এভাবে যেকোনো জমির দিয়ারা খতিয়ান অনলাইনে চেক করতে পারবেন। চাইলে এখানে থেকেই খতিয়ান সংগ্রহ করার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

দিয়ারা খতিয়ান চেক করার নিয়ম

দিয়ারা খতিয়ান অনলাইনে চেক করার পদ্ধতি ইতোমধ্যে উপরে উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে। তবে, আপনি চাইলে নিচের তালিকায় উল্লিখিত পদ্ধতিটি অনুসরণ করেও খতিয়ান চেক করতে পারেন।

  • দিয়ারা খতিয়ান চেক করতে ভিজিট করুন https://dlrms.land.gov.bd ওয়েবসাইট।
  • সার্ভে খতিয়ান সিলেক্ট করুন।
  • বিভাগ – জেলা – উপজেলা/থানা সিলেক্ট করুন।
  • খতিয়ানের ধরণ ঘরের ভিতর দিয়ারা খতিয়ান সিলেক্ট করুন।
  • মৌজার তালিকা থেকে মৌজা সিলেক্ট করুন।
  • খতিয়ানের তালিকা থেকে খতিয়ান খুঁজে বের করে পরপর দুইবার ক্লিক করুন।
  • খতিয়ান খোজার জন্য খতিয়ান নং লিখে খুঁজুন বাটনে ক্লিক করেও খতিয়ান খুঁজে বের করতে পারবেন।

এই পদ্ধতি অনুসরণ করে যেকোনো জমির দিয়ারা খতিয়ান অনুসন্ধান করতে পারবেন। খতিয়ান অনুসন্ধান করার পর খতিয়ান সংগ্রহ করতে চাইলে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

দিয়ারা খতিয়ান অনলাইন আবেদন

অনলাইনে দিয়ারা খতিয়ান আবেদন করতে প্রথমেই খতিয়ান যাচাই করতে হবে। খতিয়ান যাচাই করা হলে পপআপ আকারে খতিয়ানের তথ্য দেখতে পারবেন। এখানে, ঝুড়িতে রাখুন বাটন দেখতে পারবেন। এই বাটনে ক্লিক করে খতিয়ানটি ঝুড়িতে যুক্ত করতে হবে। তারপর, উপরে ডান দিকে ঝুড়ি আইকনে ক্লিক করুন।

খতিয়ানের অনলাইন কপি নিতে চান নাকি সার্টিফাইড কপি, সেটি সিলেক্ট করুন। এরপর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সিলেক্ট করে নিচের দিকে চেকআউট করুন বাটনে ক্লিক করুন। তারপর, land.gov.bd ওয়েবসাইটে রিডাইরেক্ট করে নিয়ে গেলে পূর্বের একাউন্ট থাকলে লগইন করুন অথবা নতুন একটি একাউন্ট নিবন্ধন করুন।

একাউন্টে প্রবেশ করার পর ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য অনুযায়ী প্রোফাইলে তথ্য প্রদান করতে হবে। প্রোফাইলে তথ্য দিয়ে প্রোফাইলের অগ্রগতি ১০০% করতে হবে। তাহলে, খতিয়ান আবেদন করতে পারবেন। খতিয়ান আবেদন করার সময় আবেদন ফি অনলাইন কপির ক্ষেত্রে ১০০ টাকা এবং সারতিফাইড কপির ক্ষেত্রে ১৪০ টাকা পেমেন্ট করতে হবে।

এজন্য, মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম বা ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারবেন। পেমেন্ট করা হলে আবেদন কপি ডাউনলোড হবে। এই আবেদনের কপিটি প্রিন্ট করে নিতে হবে। আবেদনের কপিতে নির্ধারিত তারিখে আবেদনের কপিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নিয়ে যেতে হবে। সেখানে, নির্ধারিত স্থানে আবেদনের কপিটি জমা দিয়ে খতিয়ান সংগ্রহ করতে পারবেন।

এই পদ্ধতি অনুসরণ করে যেকোনো জমির দিয়ারা খতিয়ান অনলাইনে অনুসন্ধান করার পাশাপাশি খতিয়ান আবেদন করতে পারবেন।

সারকথা

দিয়ারা খতিয়ান একটি সার্ভে খতিয়ান। এই খতিয়ানের তথ্য অনলাইনে যাচাই করা যায়। অনলাইনে দিয়ারা খতিয়ান অনুসন্ধান করার পদ্ধতি এবং খতিয়ান আবেদন করার পদ্ধতি দেখানো হয়েছে এই পোস্টে। এছাড়াও, বিভিন্ন ধরনের সার্ভে খতিয়ান যাচাই করার নিয়ম এবং নামজারি খতিয়ান যাচাই করার নিয়ম জানতে আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য পোস্টগুলো পড়ুন।

FAQ

দিয়ারা খতিয়ান কী?

নদীর বুকে পলি জমে যখন নতুন কোনো চর জেগে ওঠে বা নদীর পাড়ের জমির আয়তন পরিবর্তন হয়, তখন সেই জমিগুলো মেপে যে খতিয়ান তৈরি করা হয়, তাকেই দিয়ারা খতিয়ান বলে। এটি মূলত চরাঞ্চলের জমির মালিকানা নির্ধারণের একটি বিশেষ রেকর্ড।

কীভাবে অনলাইনে দিয়ারা খতিয়ান যাচাই করব?

অন্যান্য খতিয়ানের মতোই এটি যাচাই করা যায়। প্রথমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের land.gov.bd সাইটে যান। সেখানে ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ অপশনে গিয়ে আপনার জেলা ও উপজেলা সিলেক্ট করুন। এরপর খতিয়ানের ধরন হিসেবে ‘দিয়ারা’ নির্বাচন করে আপনার খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর দিলে বিস্তারিত তথ্য চলে আসবে।

সব জমির কি দিয়ারা খতিয়ান থাকে?

না, সব জমির জন্য দিয়ারা খতিয়ান থাকে না। আপনার জমি যদি নদী থেকে অনেক দূরে হয় এবং সেখানে কখনো নদীর ভাঙা-গড়া না হয়ে থাকে, তবে সেই জমির জন্য আর এস বা বি এস খতিয়ানই যথেষ্ট। শুধুমাত্র নদী সিকস্তি (নদীতে বিলীন হওয়া) বা পয়স্তি (জেগে ওঠা) জমির ক্ষেত্রে এই খতিয়ান তৈরি করা হয়।

দিয়ারা জরিপ কেন করা হয়?

নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে অনেক সময় আগের মানচিত্রের সাথে বর্তমান জমির মিল থাকে না। সরকারের খাস জমি এবং সাধারণ মানুষের মালিকানা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতেই এই বিশেষ জরিপ পরিচালনা করা হয়। এটি না থাকলে চরের জমির মালিকানা নিয়ে বড় ধরণের বিবাদ তৈরির সম্ভাবনা থাকে।

অনলাইনে সার্চ করে দিয়ারা খতিয়ান না পেলে কী করব?

দিয়ারা জরিপের কাজগুলো অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদী হয় এবং সব ডাটা দ্রুত অনলাইনে আপলোড হয় না। যদি আপনার জমিটি চরাঞ্চলে হয় কিন্তু অনলাইনে তথ্য না পান, তবে আপনাকে সংশ্লিষ্ট এলাকার ‘সেটেলমেন্ট অফিস’ বা জেলা রেকর্ড রুমে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে।

দিয়ারা খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি পাওয়ার উপায় কী?

অনলাইনে তথ্য যাচাই করার পর আপনি যদি অফিসিয়াল কপি বা পর্চা পেতে চান, তবে ই-পর্চা ওয়েবসাইট থেকেই আবেদন করতে পারেন। নির্দিষ্ট ফি জমা দিলে ডাকযোগে আপনার ঠিকানায় এই খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

দিয়ারা খতিয়ানে ভুল থাকলে কি সংশোধন করা যায়?

হ্যাঁ, তবে এর প্রক্রিয়াটি কিছুটা আলাদা। জরিপ চলাকালীন কোনো ভুল হলে আপনি সেটেলমেন্ট অফিসারের কাছে আপত্তি জানাতে পারেন। কিন্তু জরিপ শেষ হয়ে খতিয়ান চূড়ান্ত হয়ে গেলে তা সংশোধনের জন্য আপনাকে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণসহ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে।

অন্যান্য পোস্টগুলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *